তথ্য না পাওয়ার কারনে যদি আপনি কোন আপিল করেন, সেক্ষেত্রে আপিলের শুনানির সময় যে তথ্য আধিকারিক বা তৃতীয় পক্ষ আপনাকে তথ্য দেননি তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে, তথ্যটি গোপন রাখা যুক্তিসম্মত। বাস্তবে আপনি কোন তথ্য চেয়ে না পেলে আপনাকে শুধু কমিশনে আপিল করতে হবে। এরপর কমিশনের দায়িত্ব হল অভিযুক্ত আধিকারিকদের জেরা করা এবং ঐ নির্দিষ্ট আধিকারিকের দায়িত্ব হল ঐ জেরায় প্রমাণ করা যে তিনি যে তথ্য দেননি তা সত্যিই এই আইন অনুযায়ী গোপনীয় তথ্য এবং এটা প্রকাশ করা আইন অনুসারে বাধা আছে। এরপর কমিশন শুনানির পর যদি তথ্যটির গোপনীয়তার স্বপক্ষে রায় দেন, তখনই আপনি হাইকোর্টে বা পরে সুপ্রীম কোর্টে ঐ রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন এবং সেখানে আপনাকে তথ্যটি প্রকাশের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে হবে।
    তথ্য কমিশনে আপিলের প্রক্রিয়াটি কোর্টের মতো খুব জটিল নয়। আপনাকে কোন আইনজ্ঞ বা উকিলও আনতে হবেনা। খুবই স্বাভাবিকভাবে আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ব্যাপারটির নিষ্পত্তি হয়। তথ্যের অধিকার আইন অনুযায়ী কমিশনের পুরোপুরি একটি দেওয়ানী কোর্টের মতো ক্ষমতা আছে। তবে যেভাবে এই আইনটি বর্ণিত হয়েছে তাতে জনস্বার্থের বিষয়টি মাথায় রেখে কমিশন কখনই কোর্টের আনুষ্ঠানিকতা অনুযায়ী তার কাজকর্ম চালায় না। এমনকি, আপিল ও অভিযোগের প্রক্রিয়ায় আপনি অস্বচ্ছন্দ্য বোধ করলে তথ্য কমিশনকে সেকথা জানাতে পারেন ও আপনার সুবিধামত কারোর সাহায্য নিতে পারেন। তথ্য কমিশন যতবেশি সম্ভব তথ্য প্রকাশের সপক্ষেই গঠিত হয়েছে। আর তাই কমিশনার বা কমিশনের কর্মীরা সঠিক তথ্য প্রকাশের স্বার্থে আপনার হয়েই সওয়াল করবেন বা আপনাকে সাহায্য করবেন।

পাতা: 1 | 2 | পরের পাতা